USDBDTUSD/BDT122.45 +0.32%EURUSDEUR/USD1.0867 -0.18%GBPUSDGBP/USD1.2734 +0.24%XAUSDXAU/USD2,358.20 +0.91%USDJPYUSD/JPY156.42 -0.41%BTCUSDBTC/USD67,420 +1.84%USDBDTUSD/BDT122.45 +0.32%EURUSDEUR/USD1.0867 -0.18%GBPUSDGBP/USD1.2734 +0.24%XAUSDXAU/USD2,358.20 +0.91%USDJPYUSD/JPY156.42 -0.41%BTCUSDBTC/USD67,420 +1.84%USDBDTUSD/BDT122.45 +0.32%EURUSDEUR/USD1.0867 -0.18%GBPUSDGBP/USD1.2734 +0.24%XAUSDXAU/USD2,358.20 +0.91%USDJPYUSD/JPY156.42 -0.41%BTCUSDBTC/USD67,420 +1.84%

ফরেক্স কি?

4 মিনিট পড়া

ফরেক্স আসলে কি, আর কিভাবে কাজ করে এই মার্কেট?

আপনার হাতে যদি আজ ১০০ ডলার থাকতো, আর কেউ এসে বলতো "এটা বিক্রি করে ইউরো কিনে রাখুন, কয়েকদিন পর আবার ডলারে ফিরিয়ে আনবেন", আপনি হয়তো ভাবতেন লোকটা পাগল। টাকা তো টাকাই, একটাকে আরেকটায় পাল্টানোর মানে কি? অথচ পুরো ফরেক্স মার্কেটটাই দাঁড়িয়ে আছে ঠিক এই সাধারণ ধারণার ওপর। শুধু পার্থক্য হচ্ছে, "কিছুদিন পর" কথাটা এখানে কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মাস, যেকোনো কিছুই হতে পারে।

সোজা বাংলায়, ফরেক্স হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয়-বিক্রয়। এখানে আপনি একটা দেশের কারেন্সি বিক্রি করে আরেকটা দেশের কারেন্সি কেনেন। যেমন ধরুন, আমেরিকার কারেন্সি ডলার, ব্রিটেনের কারেন্সি পাউন্ড। ফরেক্স মার্কেটে আপনি ডলার বিক্রি করে পাউন্ড কিনতে পারেন, আবার পাউন্ড বিক্রি করে ডলারও কিনতে পারেন। এভাবেই তৈরি হয় EUR/USD, GBP/USD, USD/CHF এর মত পেয়ারগুলো, যেগুলো নিয়ে এই সাইটে আমরা প্রতিদিন কথা বলি।

বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা: ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, ইয়েনের পতন এবং সোনার ওঠানামা

দুই দিকেই লাভের সুযোগ, শেয়ার মার্কেটের চেয়ে এখানেই ফরেক্সের আসল মজাঃ

দুনিয়ার কারেন্সির দাম সবসময় ওঠানামা করে। পত্রিকায় খেয়াল করলে দেখবেন, কখনো ডলার টাকার বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে, কখনো আবার দুর্বল হচ্ছে। ধরুন, আপনার কাছে ১০০ ডলার ছিল, সেটা দিয়ে ৮০ ইউরো কিনলেন। পরে ইউরোর দাম বেড়ে গেলে সেই ৮০ ইউরো বিক্রি করে ফিরে পেলেন ১২০ ডলার। এখানেই লুকিয়ে আছে ফরেক্সের আসল লাভ। শেয়ার মার্কেটে আপনি লাভ করতে পারবেন শুধু শেয়ারের দাম বাড়লে। কিন্তু ফরেক্সে, কারেন্সি শক্তিশালী হোক বা দুর্বল হোক, দুই দিকেই ট্রেড করে লাভের সুযোগ থাকে। এই কারণেই একটা প্রচলিত কথা আছে, শেয়ার মার্কেট যখন নিচে নামতেই থাকে, ফরেক্সে তখনও কোন না কোন কারেন্সি ওপরে উঠছে।

তবে এখানে একটা কথা স্পষ্ট করে বলে রাখা দরকার। দুই দিকেই ট্রেড করার সুযোগ থাকা মানে এই না যে দুই দিকেই লাভ করা সহজ। যেদিকে ট্রেড নিচ্ছেন, দাম যদি উল্টো দিকে যায়, লসও কিন্তু ঠিক ততটাই বাস্তব। এটাকে "মার্কেটে মন্দা নেই" ভেবে নিশ্চিন্ত থাকার কিছু নেই।

কেন এখন যে কেউই ফরেক্স ট্রেড করতে পারেঃ

এক সময় শুধু বড় বড় ব্যাংক আর প্রতিষ্ঠানই ফরেক্স মার্কেটে ট্রেড করার সুযোগ পেত। এখন ব্রোকারদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে যে কেউই, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে, একটা ইন্টারনেট কানেকশন আর কম্পিউটার বা মোবাইল দিয়েই ফরেক্স ট্রেড করতে পারেন। প্রায় প্রতিটা ব্রোকারই ফ্রি ডেমো অ্যাকাউন্টের সুবিধা দেয়, অর্থাৎ ভার্চুয়াল টাকা দিয়ে প্র্যাকটিস করার সুযোগ। আমার পরামর্শ থাকবে, রিয়েল টাকা ঢালার আগে ডেমোতে অন্তত কয়েক মাস প্র্যাকটিস করুন। তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই, EUR/USD আজও যেখানে আছে, কালও প্রায় সেখানেই থাকবে।

ফরেক্স মার্কেটের আকার নিয়ে একটা মজার তথ্য দেই। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্টক এক্সচেঞ্জ নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ, আর ফরেক্স মার্কেটের দৈনিক লেনদেন তার চেয়েও বহুগুণ বেশি। এত বড় আকারের কারণেই কোন একক প্রতিষ্ঠান বা সরকার চাইলেও এই মার্কেটের দাম কারচুপি করতে পারে না। ডলার বা ইউরোর দাম কোন সরকার বসে ঠিক করে দেয় না, বরং অর্থনৈতিক অবস্থা আর ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে দাম নিজে নিজেই ঠিক হয়, আর আপনি যে দামে ডলার কিনবেন, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে প্রায় সেই একই দামেই ডলার কেনাবেচা হবে।

আর সময়ের সুবিধাও কম না। ফরেক্স মার্কেট সপ্তাহে ৫ দিন, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। আপনি চাকরিজীবী হোন বা ব্যবসায়ী, নিজের সুবিধামত সময়ে ট্রেড করার সুযোগ থাকে, বাসায় বসেই।

লিভারেজঃ যে সুবিধাটাই সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনকও

ফরেক্স মার্কেটে লিভারেজ নামে একটা সুবিধা পাওয়া যায়, যেটার মাধ্যমে অল্প ক্যাপিটাল দিয়েও বড় অংকের ট্রেড ওপেন করা যায়। যেমন ১০০ ডলার দিয়ে ব্রোকার আপনাকে ১০,০০০ ডলারের সমান ট্রেড করার সুযোগ দিতে পারে। শুনতে দারুণ লাগছে, তাই না? অল্প টাকায় বড় লাভের স্বপ্ন! কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে বড় ফাঁদ। লিভারেজ যেমন লাভকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়, ঠিক তেমনি লসকেও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। বেশি লিভারেজ নিয়ে ট্রেড করা মানে অল্প একটু বিপরীত মুভমেন্টেই পুরো অ্যাকাউন্ট উড়ে যাওয়ার ঝুঁকি। তাই লিভারেজকে বন্ধু ভাবার আগে এটাকে একটা ধারালো ছুরি ভাবুন, ঠিকভাবে ব্যবহার করলে কাজে লাগবে, না বুঝে ব্যবহার করলে নিজেরই ক্ষতি।

স্ক্যাল্পিং নিয়ে একটা সতর্কবার্তাঃ

ফরেক্সে স্ক্যাল্পিং একটা পরিচিত শব্দ, অর্থাৎ কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের জন্য ট্রেড ওপেন রেখে ছোট প্রফিট নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া। নতুন ট্রেডারদের কাছে এটা আকর্ষণীয় লাগে, কেননা মনে হয় দ্রুত দ্রুত লাভ তোলা যাবে। বাস্তবতা হচ্ছে, স্ক্যাল্পিং সবচেয়ে কঠিন স্ট্রাটেজিগুলোর একটা, কেননা স্প্রেড আর কমিশনের হিসাব এখানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। নতুন অবস্থায় স্ক্যাল্পিং নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে আগে ভালো করে শিখে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অ্যাকাউন্ট খোলা ও ডিপোজিটঃ

ফরেক্স ট্রেড করতে হলে প্রথমেই দরকার একটা রেগুলেটেড ব্রোকারের সাথে অ্যাকাউন্ট খোলা। বেশিরভাগ ব্রোকারেই এই প্রক্রিয়াটা কয়েক মিনিটেই অনলাইনে করা যায়। ডিপোজিটের জন্য এখন সবচেয়ে সাধারণ আর নিরাপদ মাধ্যম হচ্ছে ব্যাংক ট্রান্সফার বা লোকাল কার্ড, আর অনেক ব্রোকার মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমেও ডিপোজিট নেওয়ার সুবিধা দেয়। অ্যাকাউন্ট খোলার আগে ব্রোকারটা আসলেই কোন স্বীকৃত regulatory অথরিটির অধীনে নিবন্ধিত কিনা, সেটা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

ডিপোজিট সম্পন্ন হলে ব্রোকারের দেওয়া ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম (যেমন MetaTrader) ডাউনলোড করে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলেই চার্ট আর প্রাইস লোড হবে, আর আপনি ট্রেড ওপেন-ক্লোজ করতে পারবেন।

সবশেষে একটা সৎ কথাঃ

ফরেক্স মার্কেট থেকে কিছু না জেনেও হয়তো শুরুতে কেউ কেউ লাভ করে ফেলেন, অনেকটা লটারির মত। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান আর দক্ষতা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। স্টক মার্কেটের মতই ফরেক্স মার্কেটও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং, আর এখানে দ্রুত ধনী হওয়ার কোন শর্টকাট নেই। যারা এই সত্যিটা মেনে নিয়ে ধৈর্য ধরে শিখতে রাজি, এই স্কুল মূলত তাদের জন্যই।

পরের লেসনে আমরা কথা বলবো, একটা পেশা হিসেবে ফরেক্স ট্রেডিং আসলে কেমন, আর সেই পথে পা বাড়ানোর আগে নিজেকে কোন প্রশ্নগুলো করা উচিত। ততক্ষণ পর্যন্ত, ডেমো অ্যাকাউন্টে সময় দিন, আর তাড়াহুড়ো করবেন না।

লেসন কুইজ

লেসনটি সম্পন্ন করতে কুইজে 100% পেতে হবে।

কুইজ দিতে লগইন করুনলগইনরেজিস্টার

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করতে লগইন করুনলগইনরেজিস্টার