স্প্রেড, স্টপ লস এবং টেক প্রফিট
স্প্রেডঃ প্রতিটা ট্রেডেই যে লুকানো খরচ থাকে
আগের লেসনে লট আর পিপ ভ্যালু নিয়ে কথা হলো। এবার এমন একটা জিনিস নিয়ে বলি, যেটা প্রথমবার দেখলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। আপনি একটা ট্রেড ওপেন করলেন, আর দেখলেন সেটা শুরুতেই সামান্য লসে বসে আছে, অথচ মার্কেট তো এখনও নড়েইনি! কি ব্যাপার, ব্রোকার কি ঠকাচ্ছে?
সোজা বাংলায় উত্তর হচ্ছে, না, এটা ঠকানো না, এটা স্প্রেড। ফরেক্স ট্রেডের প্রতিটাতেই ব্রোকার একটা ছোট ফি বা চার্জ কেটে নেয়, আর সেটাই আপনার ট্রেডকে শুরুতেই সামান্য লসে দাঁড় করিয়ে দেয়। এই চার্জটাকেই বলা হয় স্প্রেড, আর এটা আসলে বাই প্রাইস আর সেল প্রাইসের মধ্যেকার পার্থক্য।
উদাহরণ দিয়ে বুঝি। ধরুন, আপনি GBP/USD বাই করলেন ১.৩৪২০ এ। কিন্তু আপনার ট্রেড আসলে ওপেন হলো ১.৩৪২৩ এ, অর্থাৎ ৩ পিপস বেশি দামে। এই ৩ পিপসই স্প্রেড। আপনি যদি $১ পিপ ভ্যালু দিয়ে ট্রেড ওপেন করে থাকেন, তাহলে ট্রেডটা শুরু থেকেই ৩ ডলার লসে বসে থাকবে। মার্কেট আপনার অনুকূলে যতক্ষণ না ওই ৩ পিপস অতিক্রম করছে, ততক্ষণ আপনি আসলে লাভের ঘরেই ঢোকেননি।
স্প্রেড কেন পেয়ারভেদে আলাদা হয়ঃ
মজার বিষয় হচ্ছে, স্প্রেড সব পেয়ারে সমান না। EUR/USD বা GBP/USD এর মত বহুল ট্রেড হওয়া পেয়ারে সাধারণত স্প্রেড কম থাকে, ১-৩ পিপসের আশেপাশে। কিন্তু কম পরিচিত বা কম ট্রেড হওয়া পেয়ারে স্প্রেড ৩০ পিপস বা তারও বেশি হতে পারে। এর পেছনের কারণটাও যুক্তিসঙ্গত। যে পেয়ারে লিকুইডিটি বেশি, অর্থাৎ যেখানে প্রচুর মানুষ প্রতিনিয়ত বাই-সেল করছে, সেখানে স্প্রেড স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। আর যে পেয়ারে ট্রেডার কম, সেখানে স্প্রেডও বেশি।
ব্রোকার আর অ্যাকাউন্ট টাইপ ভেদেও স্প্রেড কম-বেশি হয়। এমনকি একই ব্রোকারের ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্ট টাইপেও (যেমন Raw Spread টাইপ অ্যাকাউন্টে সাধারণত স্প্রেড অনেক কম থাকে, তবে সাথে আলাদা কমিশন যুক্ত হয়) স্প্রেডের অংক আলাদা হতে পারে। তাই অপরিচিত কোন পেয়ারে ট্রেড নেওয়ার আগে প্ল্যাটফর্মে স্প্রেডটা একবার চেক করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, বিশেষ করে নিউজের সময়, কেননা তখন স্প্রেড হঠাৎ কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে, এই কথাটা আগেও একবার আলোচনা করেছিলাম।
স্টপ লস আর টেক প্রফিটঃ ট্রেডে বসিয়ে দেওয়া দুটো নিরাপত্তা বেড়া
এবার আসি আরেকটা জরুরি বিষয়ে। ধরুন, আপনি একটা ট্রেড ওপেন করে রেখে ঘুমাতে গেলেন, বা কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। এই সময়ে যদি মার্কেট হঠাৎ আপনার বিপরীতে চলে যায়, কি হবে? এখানেই কাজে লাগে স্টপ লস আর টেক প্রফিট।
স্টপ লস দিয়ে আপনি আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে পারেন, লসে থাকা একটা ট্রেড ঠিক কোন প্রাইসে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে। আর টেক প্রফিট দিয়ে ঠিক করে রাখেন, লাভে থাকা ট্রেডটা কোন প্রাইসে গিয়ে বন্ধ হবে। উদাহরণ দিয়ে বলি। ধরুন, আপনি ১.১৪৫০ এ একটা বাই ট্রেড ওপেন করলেন। আপনার প্ল্যান হচ্ছে, ৫০ পিপস লাভ হলে বেরিয়ে যাবেন, আর ৫০ পিপসের বেশি লস হতে দেবেন না। তাহলে আপনি ৫০ পিপস দূরত্বে স্টপ লস আর ৫০ পিপস দূরত্বে টেক প্রফিট বসিয়ে দিতে পারেন।
এই দুটো অর্ডার বসিয়ে রাখলে আপনার কম্পিউটার বন্ধ থাকুক বা আপনি ঘুমিয়ে থাকুন, নির্দিষ্ট প্রাইসে পৌঁছালেই ট্রেডটা নিজে থেকেই ক্লোজ হয়ে যাবে। বিশেষ করে হঠাৎ কোন স্পাইক এলে, যেমন বড় কোন নিউজের সময়, স্টপ লস ছাড়া ট্রেড ধরে রাখা মানে নিজের অ্যাকাউন্টের ভাগ্য পুরোপুরি মার্কেটের হাতে ছেড়ে দেওয়া। আগেও বলেছি, স্টপ লস ছাড়া ট্রেড মানেই একটা বিপজ্জনক জুয়া।
তাহলে আজকের শিক্ষাটা মিলিয়ে নিই। স্প্রেড হচ্ছে প্রতিটা ট্রেডের একটা অনিবার্য খরচ, যেটা ট্রেড ওপেন করার সাথে সাথেই কেটে নেওয়া হয়। আর স্টপ লস, টেক প্রফিট হচ্ছে আপনার ট্রেডের নিরাপত্তা বেড়া, যা আপনার অনুপস্থিতিতেও অ্যাকাউন্টকে রক্ষা করে। এই দুটো জিনিস অবহেলা করলে, দেখা যাবে ছোট একটা ট্রেডের হিসাবও একসময় বড় বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। পরের লেসনে আমরা কথা বলবো মার্কেট সেশন নিয়ে, দিনের কোন সময়টায় কোন পেয়ার সবচেয়ে বেশি অ্যাক্টিভ থাকে।
লেসন কুইজ
লেসনটি সম্পন্ন করতে কুইজে 100% পেতে হবে।