লট/ভলিউম
লট ও ভলিউমঃ আপনার ট্রেডের প্রতিটা পিপসের দাম কত?
আগের লেসনে শিখেছি, মার্কেট প্রতিটা পিপস করে মুভ করে। কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। EUR/USD ১০ পিপস মুভ করলে সেটা কি ১ ডলার লাভ, নাকি ১০০০ ডলার লাভ? উত্তরটা নির্ভর করে আপনি কত "লট" দিয়ে ট্রেড করছেন তার ওপর। আজকের লেসনটা ঠিক এই প্রশ্নেরই উত্তর।
সোজা বাংলায়, লট বা ভলিউম হচ্ছে আপনার ট্রেডের সাইজ। এটাই ঠিক করে দেয়, প্রতি পিপস মুভমেন্টে আপনার কত ডলার লাভ বা লস হবে। ইউনিটের হিসাবে গেলে ব্যাপারটা একটু জটিল লাগতে পারে, তাই আজকে আমরা সরাসরি পিপ ভ্যালুর হিসাবেই বুঝে নেব, ইউনিট গণনায় যাবো না।
১ স্ট্যান্ডার্ড লটের হিসাবঃ
আন্তর্জাতিকভাবে ফরেক্সে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত পেয়ারগুলোতে (যেমন EUR/USD) ১ স্ট্যান্ডার্ড লট সাইজে ট্রেড করলে প্রতি পিপস মুভমেন্টে লাভ বা লস হয় প্রায় ১০ ডলার। এই ১ লট থেকেই বাকি সব হিসাব বের করা যায়, লট সাইজ ছোট বা বড় করলে পিপ ভ্যালুও সেই অনুপাতে ছোট বা বড় হয়।
লট সাইজের হিসাবটা দেখা যাক (EUR/USD এর মত প্রধান পেয়ারের জন্য)ঃ
১ লট = প্রতি পিপস $১০
০.১ লট = প্রতি পিপস $১
০.০১ লট = প্রতি পিপস $০.১০
১০ লট = প্রতি পিপস $১০০
তার মানে, আপনি যদি ১ লট দিয়ে একটা ট্রেড ওপেন করেন আর ১০ পিপস আপনার অনুকূলে যায়, লাভ হবে ১০ x ১০ = ১০০ ডলার। উল্টো দিকে গেলে লস হবে ঠিক একই পরিমাণ, ১০০ ডলার। আর ০.০১ লট দিয়ে একই ১০ পিপস মুভ করলে লাভ বা লস হবে মাত্র ১ ডলার।
এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে "০.০১ লট" কথাটার মানে কি? এটাকে বলা হয় মাইক্রো লট, অর্থাৎ ১ স্ট্যান্ডার্ড লটের একশ ভাগের এক ভাগ। এই ছোট সাইজেই বেশিরভাগ নতুন ট্রেডার ট্রেড শুরু করেন, কেননা এতে ঝুঁকিও অনেক কম।
কেন লট সাইজ বোঝাটা এত জরুরিঃ
মজার বিষয় হচ্ছে, ফরেক্সে যত মানুষ অ্যাকাউন্ট উড়িয়ে ফেলেন, তার একটা বড় অংশের মূল কারণ থাকে ভুল লট সাইজ। ধরুন, আপনার অ্যাকাউন্টে আছে ১০০ ডলার, আর আপনি ১ স্ট্যান্ডার্ড লট দিয়ে ট্রেড ওপেন করলেন। বাজার মাত্র ১০ পিপস উল্টো দিকে গেলেই আপনার পুরো ১০০ ডলার শেষ। এটাই লিভারেজের সেই বিপজ্জনক দিকটা, যা নিয়ে আগেও সতর্ক করেছিলাম। তাই ক্যাপিটাল কম হলে লট সাইজও ছোট রাখা, এটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। ছোট ক্যাপিটাল দিয়ে বড় লট সাইজে ট্রেড করা, অনেকটা রিকশায় বসে ফর্মুলা ওয়ান রেসের গতিতে চালানোর চেষ্টার মত। গতি পাবেন ঠিকই, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনাও ততটাই বেশি।
কাস্টম লট সাইজঃ
শুধু ১ লট, ০.১ লট বা ০.০১ লট নয়, চাইলে আপনি ২.৫ লট, ১.৩৭ লট, এরকম যেকোনো কাস্টম সাইজেও ট্রেড করতে পারেন। বেশিরভাগ প্ল্যাটফর্মেই লট সাইজ ০.০১ এর গুণিতকে যত খুশি বসানো যায়। তাই লট সাইজ ঠিক করার আগে নিজের অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স আর কতটুকু ঝুঁকি নিতে চান, সেই হিসাবটা আগে করে নেওয়া ভালো, প্ল্যাটফর্মের ডিফল্ট সংখ্যায় চোখ বন্ধ করে ভরসা করা নয়।
আমার লট সাইজের পিপ ভ্যালু কত, সেটা কিভাবে যাচাই করবঃ
প্রতিটা ব্রোকার আর প্রতিটা অ্যাকাউন্ট টাইপে পিপ ভ্যালু কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, বিশেষ করে জাপানিজ ইয়েনের মত ভিন্ন দশমিক কাঠামোর পেয়ারে। তাই লাইভ অ্যাকাউন্টে ট্রেড শুরু করার আগে দুইটা কাজ করে নিন। প্রথমত, ব্রোকারের ওয়েবসাইট বা লাইভ সাপোর্টে জিজ্ঞাসা করে নিন আপনার নির্দিষ্ট পেয়ারে ১ লটের পিপ ভ্যালু কত। দ্বিতীয়ত, একটা ডেমো অ্যাকাউন্টে ১ লট দিয়ে একটা ট্রেড ওপেন করে দেখুন, ১০ পিপস মুভ করলে ঠিক কত ডলার বদলাচ্ছে। এভাবেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে নিজের হাতে-কলমে যাচাই করা যায়।
এই হিসাবটা গুলিয়ে ফেললে মানি ম্যানেজমেন্টের পুরো পরিকল্পনাটাই ভেস্তে যেতে পারে। ধরুন, আপনি ভাবছেন প্রতি পিপসে ১ ডলার লস হচ্ছে, অথচ বাস্তবে হচ্ছে ১০ ডলার। তাহলে যে স্টপ লস আপনি "নিরাপদ" ভেবে বসিয়েছিলেন, সেটাই হয়ে যেতে পারে আপনার অ্যাকাউন্টের জন্য বিপজ্জনক।
তাহলে আজকের শিক্ষাটা সংক্ষেপে বলি। লট সাইজ ঠিক করে প্রতি পিপস মুভমেন্টে আপনার আসল লাভ-লসের অংক, আর এই হিসাবটা নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী ঠিক করা উচিত, আবেগ বা লোভ অনুযায়ী নয়। পরের লেসনে আলোচনা করব স্প্রেড নিয়ে, প্রতিটা ট্রেডেই যে একটা লুকানো খরচ থাকে, সেটা নিয়ে।
লেসন কুইজ
লেসনটি সম্পন্ন করতে কুইজে 100% পেতে হবে।