যুক্তরাজ্যে ভোক্তার খরচ মন্দা, নতুন প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ!
গরমের ঢেউ আর ফুটবল বিশ্বকাপেও কেন খরচ কমছে ব্রিটিশদের?

মনে করুন, আপনি খুব ছুটির মেজাজে আছেন, বাইরে গনগনে গরম, আর আপনার প্রিয় দল ফুটবলে দারুণ খেলছে—এমন পরিস্থিতিতে কী আপনি বাজার করতে বের হবেন না? স্বাভাবিকভাবেই একটু বাড়তি খরচ করার কথা, তাই না? কিন্তু মজার বিষয় হলো, যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি! জুন মাসে সেখানকার ভোক্তারা অনেক গরম আর বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করলেও তাদের খরচ করার প্রবণতা কমে গেছে।
কেন ব্রিটিশরা খরচ কমালো?
ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম (BRC) এবং বার্কলেসের তথ্য বলছে, গত মে মাস থেকে জুনে খুচরা বিক্রি বেশ কমেছে। মে মাসে যেখানে মোট খুচরা বিক্রি বছরে ৩.৭% বেড়েছিল, জুনে তা কমে হয়েছে ১.৯%। এমনকি একই ধরনের পণ্যের বিক্রিও ৩.৪% থেকে কমে ১.৭% হয়েছে। যদিও বার্কলেসের অন্য একটি সূচকে বলা হচ্ছে, মে মাসের ০.৮% থেকে জুনে খরচ ১.৯% বেড়েছে, তবে সেটা মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ বৃদ্ধির কারণে। এটি গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
গরমের কারণে পোশাক, ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনারের বিক্রি বেড়েছে, আর বিশ্বকাপের সময়ে পাবগুলোতে বেচাকেনা ভালো হয়েছে। অনলাইনেও কেনাকাটা বেড়েছে। এপ্রিল-মে মাসে ইরান যুদ্ধের আশঙ্কায় ভ্রমণ খরচ কমেছিল, তবে সম্প্রতি তা স্থিতিশীল হয়েছে।
ভবিষ্যতে কী হতে পারে?
ইনস্টিটিউট অফ গ্রোসারি ডিস্ট্রিবিউশন (IGD) বলছে, এই গরমে আর বিশ্বকাপ ফুটবলের কারণে জুলাইয়ে আবার কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ইরান যুদ্ধজনিত কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মানে, সামনের দিনে বাজারে গেলে হয়তো দেখবেন, শখ করে কিছু কিনতে চাইলেও পকেটে টান পড়ছে!
নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য চ্যালেঞ্জ:
খুব সম্ভবত অ্যান্ডি বার্নহাম যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। আর তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ব্যবসায়ীরা তার উপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছে। কনফেডারেশন অফ ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রি (CBI) এবং এনার্জি ইউকে (Energy UK) জানিয়েছে, উচ্চ বিদ্যুৎ বিলের কারণে প্রায় ৪০% প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছে। জি৭ দেশগুলোর গড় দামের তুলনায় যুক্তরাজ্যের বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪৫% বেশি! এটি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়, তাই না?
তারা দাবি করেছে যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর চাপানো ট্যাক্স এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত লেভিগুলো ব্যবসায়িক বিদ্যুৎ বিল থেকে বাদ দেওয়া হোক। তাদের মতে, এতে প্রায় ২০% পর্যন্ত জ্বালানি খরচ কমতে পারে। অন্যদিকে, ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (TUC) ব্যাংকগুলোর লাভের ওপর বাড়তি কর বসিয়ে সেই টাকা দিয়ে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল কমানোর দাবি জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য সামনের দিনগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। তাকে একইসাথে ভোক্তাদের খরচ করার ক্ষমতা বাড়ানো, ব্যবসায়ীদের জ্বালানি খরচ কমানো এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ—এই সবকিছুর দিকে নজর রাখতে হবে। সত্যিই কঠিন কাজ, তাই না?
সূত্র: ForexLive





