এ সপ্তাহে নজরে মুদ্রাস্ফীতি ও ফেডের নতুন কৌশল!
আসন্ন সপ্তাহে ফরেক্স মার্কেটে ঝড় তুলতে পারে CPI রিপোর্ট ও ফেড চেয়ার ওয়ার্শের মন্তব্য।

ধরুন, আপনি মার্কেটে ট্রেড করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর ঠিক তখনই আপনার সামনে দুটো বড় ইভেন্ট এসে হাজির—যা পুরো গেমপ্ল্যানটাই বদলে দিতে পারে! এই সপ্তাহে ফরেক্স মার্কেটেও ঠিক এমনই দুটি বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের পলিসি নিয়ে আমাদের ধারণাকে একদম উল্টেপাল্টে দিতে পারে। এর ফলে মার্কিন ডলার, ট্রেজারি ইয়েল্ড, ইকুইটি আর মূল্যবান ধাতুগুলোতে বড়সড় নড়চড় দেখা যেতে পারে।
প্রথম এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি হলো মঙ্গলবারের (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) জুনের সিপিআই (Consumer Price Index) রিপোর্ট। আপনারা তো জানেনই, মুদ্রাস্ফীতিই এখন মার্কেট এবং ফেডের মূল মাথাব্যথা। ইদানীং তেলের দাম কমার কারণে কিছুটা স্বস্তি এলেও, এই স্বস্তিটা কতদিন থাকবে—সেটা নিয়েই চলছে জোর বিতর্ক।
CPI রিপোর্টে কী আশা করা হচ্ছে?
অর্থনীতিবিদরা আশা করছেন, হেডলাইন সিপিআই মাসে ০.৫% থেকে কমে ০.১% বাড়বে। এটা যদি সত্যিই হয়, তাহলে জুন ২০২৫ সালের পর থেকে এটিই হবে সবচেয়ে কম মাসিক রিডিং। শুনতে ভালো শোনাচ্ছে, তাই না? কিন্তু এখানেই একটা 'কিন্তু' আছে! ফেডের মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্য হচ্ছে ২.০%। আর মাসিক ০.২% বা তার বেশি মুদ্রাস্ফীতি মানেই কিন্তু ফেডের লক্ষ্যের চেয়ে অনেকটাই বেশি। তাই বার্ষিক হেডলাইন সিপিআই ৪.২% থেকে কমে ৩.৮% হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আর কোর সিপিআই (খাদ্য ও শক্তি বাদ দিয়ে), সেটা মাসিক ০.২% বাড়বে এবং বার্ষিক হার ২.৯% থেকে কিছুটা কমে ২.৮% হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার মানে ফেডের লক্ষ্যের চেয়ে এখনো অনেক উপরেই থাকবে। মজার বিষয় হচ্ছে, মার্চ ২০২১ সাল থেকে হেডলাইন সিপিআই ২.০%-এর নিচে নামেনি, আর কোর সিপিআই এপ্রিল ২০২১ সাল থেকে ২.০%-এর উপরেই আছে। এর থেকে বোঝা যায়, ভেতরের মুদ্রাস্ফীতি কতটা জেদি!
এই সিপিআই রিপোর্ট শুধু মঙ্গলবারের ট্রেডিংকেই প্রভাবিত করবে না, পুরো সপ্তাহের গতিপথ নির্ধারণ করবে। যদি রিপোর্ট প্রত্যাশার চেয়ে কম আসে, তাহলে ফেড হয়তো সুদের হার বাড়ানোর চাপ অনুভব করবে না এবং ভবিষ্যতে হার কমানোর পথ তৈরি হবে। এতে ডলার দুর্বল হতে পারে এবং ইকুইটি ও বন্ডগুলো উপকৃত হবে। উল্টো দিকে, যদি মুদ্রাস্ফীতি আবার অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যায়, তাহলে ফেড হয়তো কঠোর পলিসি চালিয়ে যাবে – এমনকি সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও বাড়তে পারে! এতে ট্রেজারি ইয়েল্ড ও ডলার শক্তিশালী হয়ে উঠবে, আর ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলো বেকায়দায় পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে আপনি কী করবেন, বলুন তো!
ফেড চেয়ার ওয়ার্শের বক্তব্য: নতুন দিগন্ত?
সিপিআই রিপোর্টের পরেই সবার চোখ থাকবে ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের দিকে। তিনি মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) হাউস ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটির সামনে এবং বুধবার সিনেট ব্যাংকিং কমিটির সামনে তার সেমি-অ্যানুয়াল মনিটারি পলিসি নিয়ে বক্তব্য দেবেন।
ওয়ার্শ সম্প্রতি তার পলিসি যোগাযোগের পদ্ধতি পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেছেন, ফেড আগামীতে সুদের হার নিয়ে আগাম কোনো ঘোষণা দেবে না, বরং প্রতিটি মিটিংয়ে ডেটার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেবে। তার মানে, যারা ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ইঙ্গিত খুঁজছেন, তারা হয়তো নিরাশ হবেন! কিন্তু একটি বিষয়ে তিনি একদম অনড়—ফেডের ২% মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্য। তিনি বারবার বলেছেন, এই লক্ষ্য বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা ফেডের নেই। আর রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে ফেড স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
এই সপ্তাহে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট আছে, যেমন যুক্তরাজ্যের GDP, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় এবং ফিলাডেলফিয়া ফেড ম্যানুফ্যাকচারিং ইনডেক্স। তবে সিপিআই এবং ওয়ার্শের বক্তব্যই আসল নাটক দেখাবে। দেখা যাক, এই সপ্তাহে মার্কেটে কী হয়! আপনি কী ভাবছেন, ডলারের ভবিষ্যত কোন দিকে? সামনের আর্টিকেলে আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করব। সাথেই থাকুন!





