ডলারের তেজ: ইরান উত্তেজনা ও ইয়েনের দুর্বলতার আখ্যান
ইরান-মার্কিন উত্তেজনার পারদ চড়তেই ডলারের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে জাপানি ইয়েন কেন পিছিয়ে পড়ছে?

মনে করুন, আপনি ফরেক্স মার্কেটে ট্রেড করছেন, আর হঠাৎ করে দেখলেন ডলারের দাম বাড়ছে। আপনার মনে প্রথম যে প্রশ্নটা আসবে, সেটা হলো, 'কেন?' মজার বিষয় হচ্ছে, এর পেছনের কারণগুলো প্রায়শই রাজনীতির ময়দান থেকে উঠে আসে, যা অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি মার্কিন ডলারের মূল্য কিছুটা বেড়েছে, যার অন্যতম প্রধান কারণ হল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা।
আপনি তো জানেনই, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে। এই পরিস্থিতিতে, ডলার প্রায়শই সেই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে। যখন দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলে, তখন মার্কেটে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই অনিশ্চয়তার সময় বড় বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করে। আর ডলারের কদর তখন বেড়ে যায়।
ইয়েন কেন পিছিয়ে পড়ছেঃ
একই সময়ে, জাপানি ইয়েনের অবস্থা কিন্তু ততটা ভালো নয়। উল্টো, এটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ইয়েনের দুর্বল হয়ে পড়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল জাপানের পেনশন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ। আপনার মনে হতে পারে, পেনশন ব্যবস্থার সাথে কারেন্সি মার্কেটের কী সম্পর্ক, তাই না? আসলে আছে! যখন দেশের পেনশন ফান্ড বা বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে, সেই দেশের মুদ্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
জাপানের ক্ষেত্রে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ পেনশন সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। যদি পেনশন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিয়ে কোনো সন্দেহ তৈরি হয়, তবে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ইয়েন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। এর ফলে USD/JPY পেয়ারে ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
তাহলে বুঝতেই পারছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থার ছোট ছোট পরিবর্তনও ফরেক্স মার্কেটে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। ট্রেডার হিসেবে আমাদের সব সময় এই খবরগুলোর দিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে, যেন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারি। প্রফিট করতে পারেন, তবে আমাকে ভুলে যাবেন না কিন্তু!
সূত্র: Investing.com Forex





