বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা: ডলারের শক্তিশালী অবস্থান, ইয়েনের পতন এবং সোনার ওঠানামা
কানাডার কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেলেও ইউএস ডলারের বিপরীতে দুর্বল হয়েছে ক্যাড; অস্থির তেলের বাজার

বৃহস্পতিবারের বৈশ্বিক ফরেক্স বাজারে ইউএস ডলার তার আধিপত্য বজায় রেখেছে, যার ফলে প্রধান প্রধান মুদ্রার অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে, সোনার দামে কিছুটা পতন ও তেলের বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
ইউএস ডলারের শক্তিশালী অবস্থান ও ইয়েনের পতন
এই বছর ফরেক্স বাজারকে প্রধানত একটি বিষয়ই চালিত করছে: ইউএস ডলারের শক্তি। বৃহস্পতিবার ডলারের এই শক্তিশালী অবস্থান বজায় ছিল, যার প্রভাব দেখা গেছে জাপানি ইয়েন (JPY) এবং কানাডিয়ান ডলার (CAD) এর উপর। ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মূল্য আরও ৬৮ পিপস বা এক শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। ইয়েনের এই পতন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জাপানি কর্তৃপক্ষ হয়তো তাদের মুদ্রার দুর্বলতা ঠেকাতে সংগ্রাম করছে। ডলারের শক্তিশালী প্রবণতার কারণে ইউএসডি/সিএডি এক্সচেঞ্জ রেট ১.৪১২০ থেকে বেড়ে ১.৪১৫৭-তে পৌঁছেছে, যা কানাডিয়ান ডলারের জন্য একটি খারাপ খবর।
কানাডিয়ান কর্মসংস্থান এবং বিল্ডিং পারমিট
কানাডার অর্থনীতিতে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। জুনে প্রত্যাশিত ১০ হাজার নতুন চাকরির বিপরীতে ১৮.২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা শ্রমবাজারের জন্য একটি ইতিবাচক খবর। তবে, মে মাসের বিল্ডিং পারমিট -১.৭% কমেছে, যেখানে ২.৪% বৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল। এই মিশ্র পরিস্থিতি কানাডিয়ান ডলারকে স্বল্প সময়ের জন্য শক্তিশালী করলেও ডলারের সামগ্রিক শক্তির কারণে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
সোনার দাম ও তেলের বাজারের অস্থিরতা
সোনার বাজারও ডলারের প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল না। সোনার দাম প্রায় ৯ ডলার কমে ৪১১৬ ডলারে নেমে আসে, যদিও দিনের শেষদিকে এটি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। অপরিশোধিত তেলের বাজার ছিল অস্থির। ইরানের যুদ্ধ সংক্রান্ত মিশ্র খবর তেলের দামে প্রভাব ফেলছে। তবে, সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারীদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যা আলোচনাকে আবার ট্র্যাকে আনতে সাহায্য করতে পারে।
স্টক মার্কেট ও অন্যান্য খবর
স্টক মার্কেটে শক্তিশালী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চিপস চাহিদার ইতিবাচক মন্তব্যের কারণে এসকে হাইলিক্সের ইউএস ডেবিউতে বাজার চাঙ্গা হয়েছে। মেটা কোম্পানিও ৬% উপরে উঠে এসেছে। ইউএস ১০-বছরের বন্ডের ফলন ২ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪.৫৬% হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের দিকে আগ্রহ বাড়াচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন যে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন স্টক মার্কেট র্যালিকে বিঘ্নিত করতে কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যা বাজারের স্থিতিশীলতার উপর আস্থা যোগাচ্ছে।





